Annapurna Bhandar: হয়ে গেল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের’ ফর্ম প্রকাশ! ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ততদিন চালু থাকবে যতদিন…’, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘‘ইতিমধ্যেই আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টি সংকল্প পত্রে আমরা জানিয়েছিলাম, সরকার গঠনের পরেই আমরা অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা করব এবং উপযুক্ত মহিলারা ১৫০০ এর পরিবর্তে ৩০০০ টাকা করে পাবেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক ধারণা ছিল যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকদের তালিকা ভেরিফায়েড। কিন্তু আমরা ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ পেয়েছি, যে ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ গেছে, CAA তে আবেদন করেননি, এমন বহু ব্যক্তি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছেন। CAA-এর আবেদন যাঁরা করেছেন, বা যাঁরা অ্যাডজুদিকেশনে রয়েছেন, তাঁরা ব্যতিক্রম। আমরা আজ একটি ফর্ম লঞ্চ করছি, নোডাল দফতরের দায়িত্বে রয়েছে মহিলা এবং শিশু কল্যাণ দফতর।’’
এর পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা বলেছি, যতক্ষণ না আয়ুষ্মান ভারতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন স্বাস্থ্যসাথী সুযোগ থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না৷ আয়ুষ্মান ভারতে যেমন যেমন এনরোলমেন্ট করে ফ্যামিলি কার্ড বা ব্যক্তিগত কার্ড পাবেন, তাঁরা স্বাস্থ্যসাথী থেকে বেরিয়ে যাবেন৷ এক্ষেত্রেও আমরা প্রথমে অ্যাশিওর করছি, তাড়াহুড়ো করার কোনও কারণ নেই৷ একদিনেই সবাইকে করতে হবে..এতদিন ২ কোটি ২০ লক্ষ মতো মানুষ এই পরিষেবা পান, যার মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে মৃত, ভুয়ো, অভারতীয়, অস্তিত্বহীন এমন প্রায় ৩০ লক্ষের মতো নাম আছে৷ সংখ্যাটা কমবেশি হতে পারেন, তাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা পাবেন না৷’’
তিনি জানান, প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি উপভোক্তা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন৷ শুভেন্দু জানান, ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যোজনার কর্মসূচি ততদিন চালু রাখব, যতক্ষণ না অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল আপ বা এনরোলমেন্ট কমপ্লিট হচ্ছে৷’’
শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্ট এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, Webel, IT থাকবেন, তার কারণ, সরকার চায় একটি পরিচ্ছন্ন তালিকা হোক। যাঁরা উপযুক্ত, বিজেপির সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে তাদের ৩০০০ টাকা দিতে চায়৷ এর পাশাপাশি নেওয়া হবে পারিবারিক তথ্যও৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পরিবারের তথ্য চায় তার কারণ আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারগুলির উন্নতি চায়। ’’
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকরী হবে এই প্রক্রিয়া। এনরোলমেন্টের কাজ শেষ হলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় চলে যাবেন উপভোক্তারা। শুভেন্দু জানান, ‘‘১ দিনের মধ্যে কাজ করতে হবে, হুড়োহুড়ি করতে হবে তেমনটা নয়। আপনাদের সহযোগিতা আমাদের চাই। আপাতত ১ লা জুন থেকে ৯০ দিন এই প্রক্রিয়া চালাব। কীভাবে হবে, অনলাইনে এবং অফলাইনেও হবে। BDO রা, পুরসভা থেকে করবেন। বড় পুরসভার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড ভিত্তিক হবে। পঞ্চায়েত স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করা হবে। যাঁরা অনলাইনে করতে পারবেন না তাঁদের জন্য। BDO অফিসের থেকে বিধায়কদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরাও ফর্ম ফিলাপের কাজে সহায়তা করবে। এরপর বিডিও দের সঙ্গে আমরা কথা বলবো। ১৫, ১৬, ১৭ জনকল্যাণ শিবির হচ্ছে, ফর্ম ফিলাপ-এর জন্যেও সাহায্য পাওয়া যাবে সেই শিবিরে। কোথাও কোনও কনফিউশন থাকলে তার সহায়তা পাবেন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘‘আমরা চাইছি পারিবারিক তথ্য পেতেও। আমরা চেয়েছি প্রকৃত নাগরিকরা এই সুবিধা পান। আর্থিক ভাবে দুর্বল, রাষ্ট্রবাদি মায়েরা এই সুবিধা যাতে পান, তার জন্য আমরা কামনা করছি। অগ্নিমিত্রা পাল এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে।আগামী সোমবার থেকে আমাদের সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সকলের এই সুবিধা হলেও পরবর্তীতে একটি কার্ড ইস্যু হবে, যাতে কেউ অসাধু ব্যবহার না করতে পারে। আমরা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম লঞ্চিং করে দিলাম। একটু পরেই govt web site-এ form দেওয়া হবে৷ প্রতি মঙ্গলবার ব্রিফিং করে জানাবেন অগ্নিমিত্রা পাল, কত লক্ষ ব্যক্তি ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এই সুবিধা পেলেন।’’



Post Comment