১০.৩ লক্ষ কোটি টাকার ভ্যালুয়েশন নিয়ে ২৮ অক্টোবর বাজারে আত্মপ্রকাশ করছে জিও প্ল্যাটফর্মস-এর IPO

আইপিও-এর মাধ্যমে জিও প্ল্যাটফর্মস বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে, যেখানে কোম্পানিটির মূল্য ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি  তালিকাভুক্ত হলে টেলিকম ও ডিজিটাল পরিষেবা প্রদানকারী এই সংস্থাটি ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিজেদের বড় জায়গায় স্থান করে নেবে।

কোম্পানিটি ১,১১৯ টাকা দরে ​​মোট ২৭ কোটি টাকার নতুন শেয়ার ইস্যু করেছে। বাজার মূলধনের দিক থেকে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, জিও প্ল্যাটফর্মস রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ভারতী এয়ারটেল এবং এইচডিএফসি ব্যাংকের পরে ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম কোম্পানি হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে।

প্রি-লিস্টিং হাইলাইটস অনুসারে, এই আইপিও-র মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনও ভারতীয় কোম্পানি ১০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি মূল্যের পাবলিক অফারিং চালু করেছে।

জিও প্ল্যাটফর্মস ভারতের শীর্ষ কর্পোরেট র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রবেশ করেছে

IPO ভ্যালুয়েশন অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (যার ভ্যালু ১৬.২ লক্ষ কোটি টাকা), ভারতী এয়ারটেল (যার ভ্যালু ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা) ও HDFC Bank (যার ভ্যালু ১০.৬ লক্ষ কোটি টাকা)-র ঠিক পরেই রয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মস।

আগামী ২৮শে অক্টোবর ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) এবং বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) শেয়ারগুলো তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে কোম্পানিটির বাজারমূল্য নির্ধারিত হবে।

সম্ভাব্য ২০ শতাংশ প্রিমিয়াম লিস্টিং জিওকে ২ নম্বরে তুলে আনতে পারে

আইপিও-র প্রবল চাহিদা এবং গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম ইঙ্গিত দিচ্ছে বরাদ্দ মূল্যের উপরে তালিকাভুক্তির সম্ভাবনাকে।

যদি শেয়ার ২০ শতাংশ প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে অভিষেক ঘটায়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে প্রতি শেয়ার ১৩৪০ টাকা টাকায় লেনদেন করবে। একবার এই ঘটনা ঘটলে জিও প্লাটফর্মের বাজার মূলধন ১২.৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। যা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পরে জিওকে ভারতের দ্বিতীয় সবথেকে মূল্যবান  লিস্টেড কোম্পানির তকমা দেবে।

রিলায়েন্স গ্রুপের মূল্য টাটা ও আদানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে

আইপিও’র মূল্যায়নের ভিত্তিতে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্মিলিত বাজার মূলধন ২৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যা মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপকে অন্যান্য প্রধান ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর থেকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে।

২০২৬ সালের ২৭শে অক্টোবর পর্যন্ত, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩২টি টাটা গ্রুপ কোম্পানির সম্মিলিত বাজার মূলধন ছিল প্রায় ২৫.৭ লক্ষ কোটি টাকা, অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ১১টি আদানি গ্রুপ কোম্পানির বাজার মূলধন ছিল প্রায় ১৬.৬ লক্ষ কোটি টাকা।

শেয়ার প্রতি ১,৩৪০ টাকায় তালিকাভুক্ত হলে রিলায়েন্স গ্রুপের সম্মিলিত বাজার মূল্য ৩০ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। চূড়ান্ত সংখ্যাটি নির্ভর করবে ২৮ তারিখ আত্মপ্রকাশের পর।  

বিনিয়োগকারীরা বাজারের চাহিদা এবং এক্সচেঞ্জগুলোতে কোম্পানিটির ভ্যালুয়েশন যাচাই করার জন্য ২৮শে অক্টোবরের লিস্টিং-এর দিকে নজর রাখবেন।

Previous post

Gold Price Crash: সোনায় দামে ফের বড় পতন! ১০ দিনে হাজার হাজার টাকা সস্তা! ধনতেরাস, দীপাবলিতেও ধসের আশঙ্কা? মধ্যবিত্তের নাগালে আসবে উচ্চবিত্তের অহঙ্কার?

Next post

Kunal Ghosh on Tapas Roy: ‘তেজ ফিরে আসুক তাপস রায়ের মধ্যেও’, সুদীপের বাড়িতে শুভেন্দু যেতেই পুরনো কথা মনে করিয়ে চরম খোঁচা কুণালের

Post Comment

You May Have Missed