প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার HDFC-র চেয়ারম্য়ান হলেন, নতুন করে তরজা শুরু
নয়াদিল্লি: প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বড় দায়িত্ব পেলেন। দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক, HDFC-র নতুন চেয়ারম্যান (পার্ট-টাইম, নন এগজিকিউটিভ) নিযুক্ত হলেন তিনি। পাশাপাশি, ইন্ডেপেন্ডেন্ট ডিরক্টরও নিযুক্ত করা হল তাঁকে। দুই পদে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ যথাক্রমে তিন ও চার বছর। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ছিলেন রাজীব কুমার। (Rajiv Kumar Appointed HDFC Chairman)
HDFC ব্যাঙ্কের বোর্ডের তরফে রাজী কুমারের নিযুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে। তাঁর কার্যকাল শুরু হয়েছে ৩০ জুন থেকে। পাশাপাশি, পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নিযুক্ত এবং বেতনও ঠিক হয়ে গিয়েছে। RBI-এর তরফেও অনুমোদন এসে গিয়েছে বলে খবর। (HDFC Bank)
অতনু চক্রবর্তী আচমকা ইস্তফা দেওয়ার পর মার্চ মাস থেকে পদটি খালি পড়েছিল। ইস্তফার কারণ জানাতে গিয়ে অতনু বলেন, “ব্য়াঙ্কের ভিতর এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, এমন কিছু কাজকর্ম চলছে, যা আমার ব্যক্তিগত মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার পরিপন্থী।”
There are many outstanding bankers fully capable of professionally managing and cleaning up rut in the @HDFC_Bank. Instead, the bank has appointed a former civil servant with no banking background — retired IAS officer and former Chief Election Commissioner Rajiv Kumar — as its… pic.twitter.com/2SVlqAgQQo
— M. Nageswara Rao IPS (Retired) (@MNageswarRaoIPS) July 1, 2026
আরও পড়ুন: রামমন্দিরে কোটি কোটি টাকা তছরুপে চম্পত রাইকে জিজ্ঞাসাবাদ, দূরত্ব বাড়াল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ
যদিও অতনুর জায়গায় রাজীব কুমারের নিযুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে বিজেপি-র দিকে ঝুঁকছে বলে লাগাতার অভিযোগ করে আসছে বিরোধীরা। HDFC-র চেয়ারম্যান করে রাজীব কুমারকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেওয়া হল কি না, এবারও সেই প্রশ্ন উঠছে।
এমনকি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা CBI-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাও-ও রাজীব কুমারের নিযুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘স্থবিরতা কাটিয়ে HDFC-কে পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করতে পারেন এমন অনেক অসাধারণ ব্যাঙ্কার রয়েছে। অথচ এমন একজনকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে, যার ব্যাঙ্কিং নিয়ে কোনও অভিজ্ঞতা নেই। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকারের দৌলতে দু’টি কারণে এই নিযুক্তি হয়ে থাকতে পারে, প্রথমত, নির্বাচন কমিশনকে বিজেপি-র সহযোগী সংস্থায় পরিণত করায় কথিত ভূমিকার জন্য রাজীব কুমারকে পুরস্কৃত করা হল। প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অন্য কোনও সরকারি পদে বসালে সমালোচনার অবকাশ থাকত। দ্বিতীয়ত, এর ফলে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি ব্য়াঙ্কের উপর ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাব বাড়বে, তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ হাসিল করা সহজ হবে’।
নির্বাচন কমিশনার থাকাকালীনও রাজীব কুমার বিতর্কে জড়ান। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে রাজস্থানে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি ছিল, কংগ্রেসের নির্বাচনে ইস্তেহারে বলা হয়েছে যে ‘সাধারণ মানুষের সম্পত্তি কেড়ে অনুপ্রবেশকারী এবং বেশি সংখ্যক সন্তানের জন্ম দেওয়া সম্প্রদায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। হিন্দু মহিলাদের ‘মঙ্গলসূত্র’ কংগ্রেস কেড়ে নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেই নিয়ে কংগ্রেস এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। বিজেপি-র তদানীন্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে একটি নোটিস পাঠায় কমিশন। নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি মেনে চলার কথা বলা হয় তাতে। কিন্তু মোদির কাছে জবাব চাওয়া হয়নি। নোটিসে কোথাও তাঁর নামও ছিল না। সেই সময়ই রাজীব কুমারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা।
১৯৮৪ ব্যাচের, ঝাড়খণ্ড ক্যাডারের IAS অফিসার রাজীব কুমার। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক পরিষেবা বিভাগের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
Suvendu Adhikari: ‘৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে, যাঁরা কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবে’,বললেন মুখ্যমন্ত্রী



Post Comment