TMC: ৩ নয়, এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ৮ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই ফ্রিজড! ৪৪০ কোটি টাকা নিয়ে মামলায় ব্যাঙ্কের বয়ান তলব

TMC: ৩ নয়, এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ৮ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই ফ্রিজড! ৪৪০ কোটি টাকা নিয়ে মামলায় ব্যাঙ্কের বয়ান তলব

শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করেন, আদালত একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে চায়। তবে তার আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চায় হাইকোর্ট। এই প্রেক্ষিতে শরৎ বোস রোডের HDFC ব্যাঙ্ককে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্যও আদালতে পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৮ জুলাই।

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানায়, আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে চাইলেও তার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চায়। সেই কারণে শরৎ বোস রোড শাখার HDFC ব্যাঙ্ককে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্টও আদালতে পেশ করতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ জুলাই।

শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “আদালতের বিষয়টি এই মুহূর্তে অস্পষ্ট। কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তার গভীরতা এখনই বিচার করা সম্ভব নয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে ডেবিট ফ্রিজিং জরুরি কি না, সেটাই আদালত বিবেচনা করবে। যদি তিনটি অ্যাকাউন্ট ঘিরে অভিযোগ থাকে, তবে কিছু সময়ের জন্য তা বন্ধ থাকতেই পারে। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না হলে তদন্ত কীভাবে এগোবে?”

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত দাবি করেন, পুলিশের সম্পূর্ণভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করার ক্ষমতা নেই। তাঁর বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিদিনের বিদ্যুৎ বিল, জলের বিল-সহ একাধিক জরুরি খরচ থাকে। কর্নাটক হাইকোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জরুরি পরিষেবার খরচ বন্ধ করা যায় না। অ্যাকাউন্ট সিজ করা যেতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণায় যোজনার ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল! কেন বাদ পড়লেন এত মহিলা? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

এর জবাবে বিচারপতি বলেন, “অপরাধের অভিযোগই যদি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত হয়, তাহলে বাধা কোথায়?” আদালত জানায়, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বহাল রেখেই শুধুমাত্র দলের দৈনন্দিন জরুরি খরচ, যেমন বিদ্যুৎ ও জলের বিল মেটানোর জন্য হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্য থেকে যুগ্ম স্পেশাল অফিসার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই সময়ের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কী কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার রিপোর্টও আদালতে জমা দিতে হবে।

পুলিশের পক্ষে সওয়াল করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, তদন্ত চলছে এবং কীভাবে অর্থ সাইফন করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন, এখনই কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে দু’দিন পরে বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।

শুনানিতে বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরের দিন সকালেই কী ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হল, যখন অভিযোগ দায়েরের আগে ওই অ্যাকাউন্টগুলিকে ঘিরে নির্দিষ্ট কোনও অপরাধের অভিযোগ সামনে আসেনি।

অভিযোগকারীদের পক্ষে আইনজীবী নীরজ কিষাণ কল দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনি অর্থ জমা হয়েছে এবং সেই কারণেই পুলিশের পদক্ষেপ সঠিক। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে দলের প্রতিনিধিত্ব কারা করছেন, সেই বিষয়েও।

এ প্রসঙ্গে তুষার মেহতা বলেন, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসে দু’জন ব্যক্তি নিজেদের সভাপতি দাবি করছেন। তাই এই পরিস্থিতিতে কোনও পক্ষকে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন, দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের বিবেচ্য বিষয় নয়, তাই সেই বিতর্কে আদালত প্রবেশ করবে না। শুনানি শেষে মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ৮ জুলাই।

Post Comment

You May Have Missed