স্বদেশি চেতনায় পরিচালিত হয়েও সমৃদ্ধি এনেছে সংস্থা, FMCG সেক্টরে এনেছে নবজোয়ার- দাবি পতঞ্জলির

স্বদেশি চেতনায় পরিচালিত হয়েও সমৃদ্ধি এনেছে সংস্থা, FMCG সেক্টরে এনেছে নবজোয়ার- দাবি পতঞ্জলির

Patanjali News: ভারতের এফএমসিজি সেক্টরে ৫-৬ শতাংশ গ্রোথ আসতে পারে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ন্যূনতম ৪-৬ শতাংশ ভলিউমও বাড়তে পারে এই সেক্টরে। ক্রিসিল রিপোর্ট এমনটাই জানাচ্ছে। বর্তমানে এফএমসিজি সেক্টরের ৬০ শতাংশ শহরাঞ্চলে এবং ৪০ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে রয়েছে। সরকারের মেক-ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগও দেশীয় বাজারকে উৎসাহিত করেছে। হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, পতঞ্জলি, আইটিসি, টাটা, বরুণ বেভারেজেস, ম্যারিকো ইত্যাদির মত সংস্থাগুলি এই সমৃদ্ধির কাহিনিকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে।

পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ দাবি করেছে যে তারা তাদের ব্যবসায়িক মডেল দিয়ে ভারতের বাজারে ইতিহাস তৈরি করেছে। সংস্থা জানিয়েছে যে প্রাথমিকভাবে আয়ুর্বেদিক এবং ভেষজ পণ্যের জন্য বিখ্যাত, পতঞ্জলি এফএমসিজি সেক্টরে একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে। কিন্তু এখন সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি হল এফএমসিজির বাইরে গিয়ে অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিকেও রূপান্তরিত করা। এর প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক সেক্টরেই নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্তরেও দেখা যাচ্ছে।

পতঞ্জলির দাবি

‘দন্তকান্তি, কেশকান্তি, এবং ঘিয়ের মত আয়ুর্বেদিক পণ্য দিয়ে সংস্থাটি বাজারে আলোড়ন তৈরি করেছে। এর সাফল্যের রহস্য হল সাশ্রয়ী মূল্য, স্বদেশি পরিচয় এবং প্রাকৃতিক উপাদানের উপর জোর দেওয়া। সংস্থাটি গ্রামীণ এবং শহুরে উভয় বাজারেই একটি শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে যা প্রতিটি গ্রামে পৌঁছেছে। এছাড়াও পতঞ্জলি ক্ষুদ্র শিল্প এবং কৃষকদের ক্ষমতায়িত করেছে যা আত্মনির্ভর ভারত মিশনের অংশ। এই সংস্থা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কাঁচামাল কিনে জৈব চাষের প্রচার করে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে।

সংস্থা জানিয়েছে যে এফএমসিজির বাইরে পতঞ্জলি আর্থিক পরিষেবাতেও পা রেখেছে। সম্প্রতি ম্যাগমা জেনারেল ইনসিওরেন্সের অংশীদারিত্ব কিনে সংস্থাটি বিমা খাতে প্রবেশ করেছে। এই পদক্ষেপ তাদের ব্যবসায়িক পোর্টফোলিওকে আরও মজবুত করেছে। এছাড়াও পতঞ্জলি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণায় বিনিয়োগ করে, তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণ করছে। সংস্থাটি ৩০টিরও বেশি দেশে স্বদেশি পণ্য রফতানি শুরু করেছে।

এই ব্যবসায়িক মডেলে মেক-ইন-ইন্ডিয়ার লক্ষ্য আরও অগ্রগতি পাবে

পতঞ্জলির দাবি, ‘আমাদের ব্যবসায়িক মডেল মেক-ইন-ইন্ডিয়ার প্রচার করে। আমরা এমএসএমই (মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ)-কে প্রযুক্তিগত ও বিতরণ সহায়তা প্রদান করে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছি। সংস্থার লক্ষ্য হল আগামী ৫ বছরের মধ্যে ভারতের শীর্ষ এফএমসিজি সংস্থায় পরিণত হওয়া যা হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের মত জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।’

পতঞ্জলি জানায়, ‘আমরা কেবল বাজারে প্রতিযোগিতাই বৃদ্ধি করিনি, বরং গ্রাহকদের প্রাকৃতিক ও স্বদেশি বিকল্পও দিয়েছি। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলি আয়ুর্বেদিক পণ্য বাজারে আনতে বাধ্য হয়েছে। পতঞ্জলির দৃষ্টিভঙ্গি ভারতকে স্বাবলম্বী করে তোলার দিকে এক আন্দোলনের সমান’।

Post Comment

You May Have Missed