সমাজের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে লড়াই দেবপ্রসাদ আর অনুজয়ের, আসছে ‘রঙ নেহি সোচ বদলো’

সমাজের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে লড়াই দেবপ্রসাদ আর অনুজয়ের, আসছে ‘রঙ নেহি সোচ বদলো’

Show Quick Read

Key points generated by AI, verified by newsroom

কলকাতা: দেবপ্রসাদ হালদারের পরিচালনায় আসছে নতুন সিনেমা, ‘রঙ নেহি সোচ বদলো’। নির্বাচনের আবহে, এই ছবির নাম সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মনে হলেও, তা কিন্তু আসলে নয়। চিরকাল থেকে চলে আসা সমাজের একটি ধারা, বা বলা ভাল, একটি ভুল ধারণা। সমাজ যেটাকে অলিখিতভাবে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর, সেই ভাবনার বিরুদ্ধেই এই ছবি, ‘রঙ নেহি সোচ বদলো’। ছবিতে অভিনয় করছেন, অনুজয় চট্টোপাধ্যায় (Anujoy Chattopadhyay) আর অঙ্কিতা দাস (Ankita Das)। হাউজ অফ ভিশন স্টুডিওজ (House of Vision Studios)-এর প্রযোজনায় আসছে নতুন এই ছবি। 

এই ছবিটি তুলে ধরে এমন এক তরুণের গল্পকে, যে নীরবে লড়াই করে চলে সমাজের একটি ধারণার সঙ্গে। আমাদের সমাজে প্রচলিত গায়ের রঙের অঘোষিত শ্রেণিবিভাগের বিরুদ্ধে, এই গল্পের নায়কের লড়াই। আজও যেখানে ফর্সা ত্বককে অবচেতনভাবে সাফল্য, আকর্ষণ এবং মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়, সেখানে তথাকথিত ‘পছন্দ’ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে গভীর মানসিক ক্ষত। ছোটবেলা থেকেই সামাজিক রঙ বৈষম্যের স্বাভাবিকীকরণ তার মনে জন্ম দেয় অদৃশ্য প্রত্যাখ্যানের বোধ। প্রতিটি মন্তব্য, প্রতিটি তুলনা, প্রতিটি উপেক্ষা তার আত্মবিশ্বাসকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে। এই সংকট উচ্চকণ্ঠ নয় এটি গভীরভাবে ব্যক্তিগত। এই সিনেমা, সূক্ষ্ম বর্ণবাদ ও রঙ বৈষম্যের মানসিক অভিঘাতকে সামনে আনে। এটি প্রশ্ন তোলে আমাদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সৌন্দর্যবোধ নিয়ে এবং দেখায়, সমাজের নীরব পক্ষপাত কীভাবে একজন মানুষের আত্মপরিচয়কে গড়ে, ভাঙে ও পুনর্নির্মাণ করে।

ছবি নিয়ে পরিচালক দেবপ্রসাদ হালদার বলেছেন, ‘আমরা অনেক সময় মনে করি বর্ণবাদ মানেই উচ্চকণ্ঠ ঘৃণা বা চরম বৈষম্য। কিন্তু আমাদের সমাজে এটি অনেক ক্ষেত্রেই ফিসফিসানিতে বেঁচে থাকে স্বাভাবিক কথোপকথনে, বিয়ের বিজ্ঞাপনে, কিংবা সাফল্য ও সৌন্দর্যের দৃশ্যমান সংজ্ঞায়। এই ছবি তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল সেই নীরব মানসিক গঠনপ্রক্রিয়াকে অনুসন্ধান করা যেখানে সূক্ষ্ম রঙ বৈষম্য ধীরে ধীরে একজন মানুষের আত্মসম্মানকে প্রভাবিত করে। আমার চরিত্রের সংকট কেবল বাইরের সংঘাত নয়; এটি বছরের পর বছর স্বাভাবিকীকৃত পক্ষপাতের ফলে আত্মবিশ্বাসের ক্ষয়। এই গল্পের মাধ্যমে আমি সমাজের সামনে একটি আয়না ধরতে চেয়েছি অভিযোগ তোলার জন্য নয়, বরং আত্মসমালোচনার জন্য। কারণ অনেক সময় সবচেয়ে ক্ষতিকর বৈষম্য সেইটিই, যাকে আমরা আর বৈষম্য বলে চিহ্নিত করি না।’

Previous post

Mexico: চাষি থেকে ড্রাগ লর্ড! সেনা অভিযানে খতম মোস্ট ওয়ান্টেড এই বেতাজ বাদশাহ, জ্বলছে গোটা শহর…

Next post

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সেরে উঠছিলেন, তার মধ্যেই ফের যকৃতে সিস্ট ধরা পড়ল দীপিকা কক্করের!

Post Comment

You May Have Missed