রংয়ের উৎসবে ৮০ হাজার কোটির ব্যবসার পূর্বাভাস দেশে?
আমাদের দোল বা হোলির সিলসিলা সিনেমার সেই বিখ্যাত গান ছাড়া অপূর্ণ থেকে যায়। ‘রঙ বরসে ভিগে চুনরওয়ালি, রঙ বরসে’। কিন্তু বাঙালি হোক বা ভারতের অন্য কোনও রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁদের কাছে রংয়ের উৎসবের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। কিন্তু কী এমন রয়েছে এ উৎসবে যে বিদেশিরাও এসে ভিড় জমাচ্ছেন হোলির সময়?
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অ্যাগোডার সার্চ ডেটা নাকি বলছে হোলির সময় একাধিক শহর সম্পর্কে সার্চ বাড়তে থাকে। বিশেষত যে সব শহরের একটা রাজকীয় আভিজাত্য রয়েছে। এই ডেটা বলছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাড়ছে সার্চের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই উদয়পুরের সার্চ রেট বেড়েছে প্রায় ৪৬০ শতাংশ। জয়পুরের বেড়েছে ১৯১ শতাংশ।
তবে, এই চিত্র শুধুমাত্র রাজস্থানের এই দুই শহরের নয়। দেশের একাধিক শহরে হোলি দেখতে ছুটে আসছেন বিদেশি পর্যটকরা। তথ্য বলছে, বিদেশি ট্যুরিস্টদের সার্চ লিস্টে ইতিমধ্যেই ঢুকতে শুরু করেছে বৃন্দাবন ও মথুরার মতো শহরও। যে শহরগুলো অধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত হয়।
একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য বলছে বৃন্দাবনের সার্চ রেট এই হোলির সময় প্রায় ১২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। বিদেশি ফটোগ্রাফার ও সাধারণ বিদেশি পর্যটকদের কাছে বৃন্দাবনের ‘ফুল ওয়ালি হোলি’ একটা আকর্ষণ তৈরি করে। অন্যদিকে, মথুরা নিয়েও ১১০ শতাংশের মতো বেশি সার্চ হয়। এখানের বারসনা এলাকার লাড্ডুমার হোলি আন্তর্জাতিক ভাবে ভাইরাল।
এমনকি এই দোলের মরশুমে খুব একটা পিছিয়ে নেই আমাদের সাধের বাংলাও। ভারতে হোলির সময় বিদেশিদের আগমনের পিছনে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবেরও বিরাট অবদান রয়েছে। হিসাব বলছে, দোলের সময় শান্তিনিকেতনের খোঁজ খবর নেওয়া বেড়ে যে প্রায় ৪৩ শতাংশ। এ ছাড়াও দক্ষিণ ভারতের হাম্পিও উল্লেখযোগ্য স্থান। সেখানে ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইটকে পিছনে রেখে হোলি খেলা হয়। আর এটি হয়তো বিদেশি পর্যটক থেকে ফটোগ্রাফারদের আকর্ষণ করে। দোলের আগে হাম্পির খোঁজ নেওয়াও বাড়াতে থাকে বিদেশি পর্যটকরা।
হোলিকে কেন্দ্র করে এই পর্যটন সাধারণত ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই হয়ে থাকে। আর এই সময়টায় দেশের অভ্যন্তরে বিমানের ভাড়া গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, বলছে তথ্য। এ ছাড়াও একাধিক শহরের হোটেল ভাড়াও বেড়ে যে প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। অ্যাঞ্জেল ওয়ানের একটা রিপোর্ট বলছে ২০২২ সালে হোলির সময় ভারতের অর্থনীতিতে প্রায় বাড়তি ২৫ হাজার কোটি টাকা ঢুকেছিল। গোদরেজ ক্যাপিটাল আশা করছে হোলি উপলক্ষ্যে চলতি বছরে গোটা দেশে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হবে।



Post Comment