মুক্তি স্থগিত, তারপরেও সিনেমাহলে ব্যবসা করছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’! কীভাবে?
কলকাতা: ২৭ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ আজ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ (The Kerala Story 2)-র। তবে আইনি জটে এই ছবির মুক্তি আপাতত বিশ বাঁও জলে। সদ্যই আদালত নির্দেশ দিয়েছে, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ছবির মুক্তি স্থগিত থাকবে। প্রাথমিকভাবে ১৫ দিনের মতো স্থগিত রাখা হয়েছে এই সিনেমার মুক্তি। জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের মতো বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়। তবে ছবির মুক্তি যদি ১৫ দিনের জন্য পিছিয়ে যায়, তাহলে ছবির ব্যবসায় গভীর প্রভাব পড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা নির্মাতাদের। সেই কারণে তাঁরা এই সিনেমার মুক্তির জন্য ফের আদালতে আপিল করেছেন।
তবে অবাক করা খবর রয়েছে। ছবি মুক্তির আগেই এই সিনেমা অন্যান্য অনেক ছবির থেকে ভাল ব্যবসা করেছে! মুক্তির কথা ছিল আজই, আর আজই এই ছবি ব্যবসার দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেল! কিন্তু কীভাবে? জানা যাচ্ছে, পিভিআর (PVR), আইনক্স (INOX) এবং সিনেপোলিসের (Cinépolis) মতো বড় সিনেমা চেনগুলি ‘বুক মাই শো’ এবং ‘ডিস্ট্রিক্ট’-এর মতো অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ -এর কোনও শো তালিকাভুক্ত করেনি। তবে এই সিনেমাটি মুম্বইয়ের বেশ কয়েকটি ম্যাক্সাস সিনেমা হলে এখনো বুকিং করা যাচ্ছে! ‘বুক মাই শো’ অনুযায়ী, স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও মুম্বইয়ের ২১টি থিয়েটারে এখনও এই সিনেমার টিকিট ক্রয় করা যাচ্ছে। তবে কলকাতায়, সিনেপোলিস-এ শুক্রবার কোনও শো দেখাচ্ছে না। অবাক করার মতো বিষয় হল, মুক্তির উপর স্থগিতাদেশের আগেই ছবিটি ‘বুক মাই শো’-তে ৫ হাজার টিকিটের প্রি-সেল সহ বক্স অফিসে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছিল। তবে জানানো হয়েছে, এই সিনেমার জন্য যাঁরা যাঁরা টিকিট কেটেছেন, তাঁদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, দামোদর সিনেমা নামের ছোট একটি চেন, স্বীকার করেছে যে ছবিটি মুক্তি পায়নি। যদিও এম২ সিনেমার মতো জাতীয় চেন, শুক্রবার সকালে ঘোষণা করেছে যে, ছবিটি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে। এর ফলে দর্শকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে কলকাতার কোনও প্রেক্ষাগৃহেই নেই এই সিনেমা। এই সিনেমাটি এর আগেই সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশনের থেকে শংসাপত্র পেয়েছিল। আদালতলে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারক। CBFC-র সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারক বলেন, ‘আপনারা সিনেমাটিকে ‘A’ সার্টিফিকেটও দেননি। আপনারা U/A দিয়েছেন।’ আদালত আরও বলেছে, সিনেমাটা এখনও মুক্তির জন্য রাজি ছিলেন না স্বয়ং সিনেমার নির্মাতারাই। CBFC-র তরফে আইনজীবী যুক্তি দেন যে, সিনেমার শিরোনামে ভারতীয় রাজ্য এবং শহরগুলির নাম ব্যবহার করা নতুন কিছু নয়। এই যুক্তি সমর্থন করার জন্য, সিনেমার শিরোনাম নিয়ে আপত্তির জবাব দিতে ‘গো গোয়া গন’, ‘ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মুম্বই’ এবং ‘দিল্লি বেলি’-র মতো উদাহরণ দেওয়া হয়েছিল।



Post Comment