‘মা-বাবার বয়সের ফারাকও লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি?’ কমিশনকে আক্রমণ মমতার

‘মা-বাবার বয়সের ফারাকও লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি?’ কমিশনকে আক্রমণ মমতার

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন ঘিরে তরজা চরমে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী কাল সুপ্রিম কোর্টেও সওয়াল করতে পারেন তিনি। তার আগে মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন। মা-বাবার বয়সের ফারাক, মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক, নামের বানানে ফারাক দেখলেই কেন লজিস্টিক্যাল বলে দেওয়া হচ্ছে প্রশ্ন তুললেন মমতা। (Mamata Banerjee)

তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এদিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। সেখানে তিনি বলেন, “নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে নোটিস ধরিয়েছে। কী মিসম্যাচ? মা-বাবার বয়সের ব্যবধান কেন, জানতে চাওয়া হচ্ছে। আগে আলাদা রীতি ছিল। আজকাল চাইলে ২৫ বছরের ছেলে ৪০ বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। আবার চাইলে ৪০ বছরের মেয়ে ৬০ বছরের কাউকে বিয়ে করতে পারে। প্রত্যেকের নিজেদের পছন্দ বেছে নেওয়ার অধিকার আছে।” (SIR in Bengal)

মমতা আরও বলেন, “মা-বাবার বয়সে কেন ১৫-২০ বছর ব্যবধান জানতে চাওয়া হচ্ছে। অমর্ত্য সেনকে নোটিস ধরিয়েছে। বাংলার জনপ্রিয় কবি জয় গোস্বামীও নোটিস পেয়েছেন। তিনিও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন। ৮০ বছর বয়স ওঁর। তাঁকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক-শিক্ষিকা, যুবসমাজ, মহিলা…বাস্তবটা বুঝুন।”

নির্বাচন কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র নামে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি বলেন, “আমি মমতা ব্যানার্জি। ইংরেজিতে ব্যানার্জি, বাংলায় বন্দ্যোপাধ্য়ায়। একই ভাবে চ্যাটার্জি-চট্টোপাধ্যায়, মুখার্জি-মুখোপাধ্যায়। এটার জন্য কি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বলে দেওয়া যায়? এটা কি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া নয়? যাঁর নামে কুমার রয়েছেন, তিনি ইংরেজিতে Kumar অথবা Kumer লিখতে পারেন। মেয়েরা অনেকেই বিয়ের পর স্বামীর পদবী ব্যবহার করেন। সবটাই তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দ। সেগুলিকেও কি লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি বলা যায়?”

পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ছাড়া, অন্যায় ভাবে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা। নির্বাচন কমিশন যা করছে, তাতে এখনও পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন, অনেকের স্ট্রোক হয়েছে, কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান। তাঁর দাবি, বিজেপি-র চেয়ে তৃণমূলের কেন্দ্রগুলিতেই বেশি ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পিছনের দরজা দিয়ে রোল অবজার্ভারদের বাংলায় আনা হয়েছে, প্রকৃত ভোটারদের নোটিস দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা। কমিশনের DG-IT সীমা খন্নাকেও তীব্র আক্রমণ করেন। অসমেও নির্বাচন রয়েছে, সেখানে কেন SIR হচ্ছে না, প্রশ্ন তোলেন মমতা। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপি লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে গেলেও, মমতার অভিযোগ, বাইরে থেকে কারা আসছে, সেই তথ্য রাজ্যের সঙ্গে ভাগও করে নেয় না কেন্দ্র। 

জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন মমতা। আগামী কাল সেই মামলার শুনানি হতে পারে। সেখানে নিজে মমতা সশরীরে হাজির থাকতে পারেন এবং সওয়াল করতে পারেন বলে খবর। তার আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনকে নিশানা করলেন মমতা।

Post Comment

You May Have Missed