মস্কোয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা? হঠাৎ সুরবদল ট্রাম্পের, পুতিন জব্দ করতে জেলেনস্কির পাশে
ওয়াশিংটন: নিজেকে শান্তিকামী হিসেবে তুলে ধরেছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারে নিয়ে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ইরান বনাম ইজরায়েল সংঘাত হোক বা ইজরায়েল বনাম হামাসের যুদ্ধ, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কিছু পদক্ষেপ প্রশ্নের উদ্রেক ঘটিয়েছে। এবার রাশিয়া বনাম ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ রাশিয়ায় আরও তীব্র আঘাত হানতে তিনি ইউক্রেনকে উৎসাহ জোগাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। (Russia-Ukraine War)
২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। নয় নয় করে সাড়ে তিন বছরের যুদ্ধে প্রাণহানি, সম্পত্তিহানি ঘটে চলেছে। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বার ফিরেই সেই যুদ্ধে ইতি টানার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তাঁর সুর ছিল নরম। বরং হোয়াইট হাউসে, সর্বসমক্ষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেই ভর্ৎসনা করেন। কিন্তু এই মুহূর্তে অন্য সুর ট্রাম্পের গলায়। (Donald Trump)
ট্রাম্প জানিয়েছেন, পুতিনের আচরণে হতাশ তিনি। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর কোনও ইঙ্গিতই দিচ্ছেন না রুশ প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি নিজের মতো করে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। যুদ্ধ থামাতে মস্কোকে ৫০ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। ওই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ না থামালে রাশিয়ার উপর ১০০ শতাংশ নিষেধাজ্ঞা চাপানোর ঘোষণাও করেছেন।
আরগ সেই আবহেই ট্রাম্প রাশিয়ার উপর আরও জোরাল আঘাত করতে চাইছেন বলে খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে। জানা যাচ্ছে, রাশিয়ার উপর জোরাল আক্রমণ করতে ইউক্রেনকে উৎসাহ জোগাচ্ছেন ট্রাম্প। ইউক্রেন থেকে সুদূর মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে হামলা চালানোর ক্ষমতা আছে কিনা, জেলেনস্কির কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি।
Financial Express-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই ফোনে জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে কিভের হাতে দীর্ঘপাল্লার হাতিয়ার তুলে দেওয়ার কথা জানান তিনি। জেলেন্সকির কাছে ট্রাম্প জানতে চান, “মস্কোকে আঘাত করতে পারবেন? সেন্ট পিটার্সবার্গে আঘাত হানার ক্ষমতা আছে?” উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, “অবশ্যই পারব। যদি আপনাদের কাছ থেকে অস্ত্র পাই।” Financial Express জানিয়েছে, ‘রাশিয়াকে যন্ত্রণাবিদ্ধ’ অবস্থায় দেখতে চান ট্রাম্প। তাদের আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে চান।
আমেরিকার তরফে ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র দেওয়া হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ইউক্রেনের হাতে ‘পেট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল’ তুলে দেওয়ার কথা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন ট্রাম্প। আত্মরক্ষার জন্যই ইউক্রেনের ওই অস্ত্র প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষণে ক্ষণে মেজাজ পাল্টায় পুতিনের। সকালে মিষ্টি করে কথা বলার পরই বিকেলে বোমা ছুড়ে মারেন। তাই ইউক্রেনকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া জরুরি। ইতিমধ্যে NATO নেতৃত্বের সঙ্গেও কথা হয়েছে ট্রাম্পের। সেই মতো ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য জোগানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোনও ইঙ্গিত দেয়নি রাশিয়া। বরং ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প যেভাবে ইউক্রেনকে অস্ত্র জোগানোর কথা বলছেন, রাশিয়াকে হুমকি দিচ্ছেন, তাতে আলোচনা ও শান্তিপ্রস্তাবের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।



Post Comment