ভারত-বিদ্বেষ দেখিয়েও সেই ভারত-নির্ভরতা ! ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করবে বাংলাদেশ

ভারত-বিদ্বেষ দেখিয়েও সেই ভারত-নির্ভরতা ! ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করবে বাংলাদেশ

ঢাকা : ভারত-বিদ্বেষের শেষ নেই বাংলাদেশে। অথচ সেই ভারতের উপরেই নির্ভরতা। ভারত থেকে ৫০,০০০ টন চাল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদনের কথা আগেই জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার জানা গেল ভারত থেকে ডিজেলও কিনবে মহম্মদ ইউনূস-সরকার। তারা ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে ১৪.৬২ বিলিয়ন টাকা খরচ করে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই পরিমাণ জ্বালানি তারা কিনে নিয়ে যাবে। গতকাল ঢাকায় এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি। ওই বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের আর্থিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। এই পরিমাণ ডিজেল আমদানি করা হবে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মাধ্যমে।

এমনিতেই বাংলাদেশ জুড়ে ভারত বিরোধী স্লোগান তুলছে কট্টরবাদীরা। উস্কানি দেওয়ার লোকেরও অভাব নেই। হাসিনা-পরবর্তী কালে ভারতবিরোধী শক্তিগুলো বাংলাদেশে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। তারা সরাসরিই ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা ও পাকিস্তানের সঙ্গে নৈকট্য বজায় রাখার পক্ষপাতী।  অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্জনের পরবর্তী সময়ে সবথেকে খারাপ জায়গায় এসে পৌঁছেছে। উভয় দেশ একে অপরের রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে এবং উভয় দেশের রাজধানী ও অন্যান্য স্থানে বাংলাদেশি ও ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে জানিয়েছিলেন, এই  উত্তাল সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস নয়া দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁর প্রশাসন ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুষ্ঠু রাখার জন্য কাজ করছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার জন্য কাজ করছেন এবং তিনি নিজেও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন।’ আহমেদ আরও বলেন, ‘আমাদের বাণিজ্য নীতি রাজনৈতিক চিন্তা দ্বারা চালিত হয় না। যদি ভারত থেকে চাল কিনলে, তা ভিয়েতনাম বা অন্য কোথাও থেকে কেনার থেকে সস্তা হয়, তবে অর্থনৈতিকভাবে সেটিই যুক্তিযুক্ত হবে। তখন আমরা এই প্রধান খাদ্যশস্য ভারত থেকেই কিনব।’ আহমেদ আশা প্রকাশ করেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আর খারাপ হবে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারত থেকে ৫০,০০০ টন চাল কেনার একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, এই চাল আমদানি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে কারণ ভারতের পরিবর্তে ভিয়েতনাম থেকে চাল আনার চেয়ে প্রতি কিলোগ্রামে ১০ বাংলাদেশি টাকা (০.০৮২ মার্কিন ডলার) বেশি খরচ হবে।

Previous post

আমেরিকাক কোটি কোটি ব্যারেল তেল দেবে ভেনিজুয়েলা, ঘোষণা ট্রাম্পের, চিন-রাশিয়া-ইরানের জন্য

Next post

Sarfaraz Khan: ৬,৪,৬,৪,৬,৪! বিশ্বের ১ নম্বর ব্যাটারের বোলিং ক্লাস নিয়ে দেশের ব্রাত্যজনের ভয়াবহ বিস্ফোরণ

Post Comment

You May Have Missed