‘বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলায় টাকা জুগিয়েছিল বাইডেন পরিবার, ক্লিন্টন, সোরোসরা’, চাঞ্চল্যকর দাবি
২০২৪-এ উত্তাল আন্দোলন। শেষমেশ সেবছর অগাস্টে শাসন-ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে বাংলাদেশে। দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে সেই উত্তাল আন্দোলনের পিছনে বিদেশি কোনও শক্তির হাত আছে বলে গোড়া থেকেই অভিযোগ উঠছিল। এবার চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। বাংলাদেশে জুলাই-অগাস্টে সেই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া টুডে-র কাছে এই দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, জর্জ সোরোস-লিঙ্কড গোষ্ঠী, USAID, ক্লিনটনরা এবং বাইডেন প্রশাসনের মধ্যে একটি জোট টাকা সরবরাহ করেছিল যা শেষ পর্যন্ত মৌলবাদীদের ইন্ধন জোগায় এবং ২০২৪ সালে ঢাকায় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনকে সংগঠিত করতে সহায়তা করে। রাশিয়া টুডে-র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে, চৌধুরী, যিনি ২০২৪ সালের সঙ্কটের সময় একজন মন্ত্রী এবং প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তিনি বলেন যে, হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরতে বাধ্য করা অশান্তি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় থাকা কিছু পরিবার, বিশেষ করে বাইডেন পরিবার, ক্লিনটন পরিবার, সোরোস পরিবার এবং কিছু এনজিও, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের – ইউএসএআইডি এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, ২০১৮ সাল থেকে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছিল। ক্লিনটন পরিবার এবং অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে অনেক আগে থেকেই… এই কার্যকলাপগুলি দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। ওরা খুব একটা প্রকাশ্যে ছিল না, কিন্তু গোপন এনজিওগুলোর জন্য ফান্ডিং চালু ছিল। তারা বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের জন্য মরিয়া ছিল।”
ছাত্র আন্দোলন গণ আন্দোলনে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশে যখন আগুন জ্বলছে, সেই সময় কার্যত প্রাণ হাতে করে ভারতে চলে আসেন হাসিনা। সেই থেকে ভারতেই রয়েছেন তিনি। মাঝে শোনা গিয়েছিল, ব্রিটেন বা অন্য কোনও দেশে নির্বাসন কাটাবেন তিনি। কিন্তু আপাতত ভারত ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন হাসিনা। কিন্তু বাংলাদেশে ফেরার কি কোনও পরিকল্পনা রয়েছে ? ৭৮ বছর বয়সি হাসিনা জানিয়েছেন, নির্বাচনে তাঁর দলকে ব্রাত্য রেখে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, সেই বাংলাদেশে ফিরবেন না তিনি। নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রয়েছে, তারা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন করানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু সেই নির্বাচনে আওয়ামি লিগ অংশ নিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হাসিনা।



Post Comment