বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত সংখ্যালঘু হিন্দু, গায়ে আগুন ধরিয়ে দিল উন্মত্তরা,পুকুরে ঝাঁপ খোকন দাসের
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত সংখ্যালঘু হিন্দু। হিংসায় উন্মত্ত একদল লোক পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করল এক ব্যক্তিকে। তাঁর গায়ে আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কোনও রকমে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন ওই ব্যক্তি। তবে তাঁর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। (Hindu Man Attacked in Bangladesh)
৩১ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বর্ষবরণের রাতে শরিয়তপুর জেলায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, খোকন দাস নামের ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে উন্মত্তরা। খোকন বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় প্রথমে ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা হয় তাঁর উপর। (Bangladesh News)
🚨 Another Hindu falls victim of jihadist attack in Bangladesh!
On December 31, 2025, Khokon Das (50), owner of a small medicine store in Tiloi village under Kanoir union in Shariatpur district was attacked by a group of jihadists, who first severely injured him with sharp… pic.twitter.com/hi8IRznlma
— Salah Uddin Shoaib Choudhury (@salah_shoaib) January 1, 2026
একেবারে খোকনের তলপেটে ধারাল অস্ত্র গেঁথে দেওয়া হয়। এর পর বেধড়ক মারধর করা হয়। সেখানেই থামেনি দুষ্কৃতীরা। পেট্রোল ছড়িয়ে খোকনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই অবস্থায় কোনও রকমে রাস্তার পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন।
খোকনের স্ত্রী জানিয়েছেন, নিজের ওষুধের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন। সেই সময় তাঁর উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। তাঁর মাথাতেও জোরে আঘাত করা হয়। খোকনের স্ত্রীর বক্তব্য, “কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে জানি না। আমরা বিচার চাই। আমার স্বামী সরল মানুষ। কারও ক্ষতি করেননি।”
Another horrific attack on a minority Hindu man in Bangladesh.
In Damudya, Shariatpur, businessman Khokon Chandra Das was stabbed in the abdomen, doused with petrol and set on fire while returning home from his shop. He survived by jumping into a nearby pond.
Critically… pic.twitter.com/v9JiayFxbG
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) January 1, 2026
পরিস্থিতির অবনতি হলে খোকনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। খোকনকে নিয়ে গত দুই সপ্তাহে চার সংখ্যালঘু হিন্দুর উপর হামলা হল বাংলাদেশে। গত ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে সহকর্মীর ছোড়া গুলিতে মৃত্যু হয় নিরাপত্তারক্ষী বজেন্দ্র বিশ্বাসের। বাংলাদেশ পুলিশ যদিও সেই ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করা হয়। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত সহকর্মী নোমান মিয়াঁকে। ২৪ ডিসেম্বর হোসেনডাঙায় অমৃত মণ্ডল নামের এক ২৯ বছর বয়সি যুবককে পিটিয়ে মারা হয়। মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করলেও, ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হিংসা বলে মানতে রাজি হয়নি।
গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে খুন হন দীপুচন্দ্র দাসও। ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যে অভিযোগে তাঁকে পিটিয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ। পিটিয়ে মারার পর দীপুর দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসছে লাগাতার। খোকনের উপর হামলার ঘটনা তাতে নয়া সংযোজন।



Post Comment