ধর্মঘট ঘিরে ধুন্ধুমার গাঙ্গুলিবাগানে, সৃজন বললেন, ‘বিজেপি-র কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছে তৃণমূল’

ধর্মঘট ঘিরে ধুন্ধুমার গাঙ্গুলিবাগানে, সৃজন বললেন, ‘বিজেপি-র কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছে তৃণমূল’

কলকাতা: কেন্দ্রের শ্রমিক বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে ‘ভারত বনধ’ চলছে। আর তাকে ঘিরে রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল দক্ষিণ কলকাতা গাঙ্গুলিবাগানে। সেখানে বাম কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে দফায় দফায় অশান্তি বাধে পুলিশের। গোড়ায় বচসা, ধাক্কাধাক্কি, ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কিন্তু কিছু ক্ষণ যেতে না যেতেই তা রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধের আকার ধারণ করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বামনেতা, SFI-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁকে রীতিমতো চ্যাংদোলা করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তিনি আহত হয়েছেন বলেও জানান সৃজন। (Bharat Bandh Today in Kolkata)

বামেদের ১০টি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ‘ভারত বনধে’ আজ সকাল থেকে রাস্তায় বামেরা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাকে ঘিরে গন্ডগোল বাধে। যাদবপুর, বাঘাযতীন, বাঘাযতীনেও সকাল থেকে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। সৃজনের নেতৃত্বে গাঙ্গাুলিবাগানে মিছিল বের করে বামেরা। সেখানে রাস্তায় একটি টায়ার জ্বালানোর চেষ্টা হয়। আর তাকে ঘিরেই পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে বাম কর্মী ও সমর্থকদের। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ হয় সৃজনেরও। (Srijan Bhattacharya)

পরিস্থিতি ক্রমশ তেতে উঠলে কার্যত চ্যাংদোলা করে আগে থেকে দাঁড় করিয়ে রাখা বাসে তোলা হয় সৃজনকে। বাম কর্মী-সমর্থকদের অনেককেই বাসে তোলা হয়। সেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে স্লোগান ওঠে, ‘পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো’। ধস্তাধস্তিতে এদিন সৃজনের পরনের জামা ছিঁড়ে যায়। তিনি আহতও হন। এবিপি আনন্দে সৃজন বলেন, “সন্দীপ ঘোষদের বাঁচায় পুলিশ। আর আমরা ধর্মঘট করলে আটকাতে আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ তৃণমূলের কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছে। আর তৃণমূল দলটি মাথা বিক্রি করে দিয়েছে বিজেপি-র কাছে। বিজেপি-র নীতির বিরোধী ডাকা ধর্মঘট, তার উপর পুলিশের আক্রমণ। এরা মনোজিৎদের ধরতে পারে না, সন্দীপ ঘোষদের ধরতে পারে না, শুধু আমাদের উপর আক্রমণ করবে।”

সৃজন জানিয়েছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল করে যাচ্ছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, “শান্তিপূর্ণ মিছিল, ধর্মঘট, পথ অবরোধ করতে দেবে না। সন্দীপ ঘোষদের ছেড়ে দেবে, বাঁচানোর ব্যবস্থা করবে প্রমাণ লোপাট করে। আর আমাদের ধরবে। এই বাংলায় বিজেপি-র কাছে নম্বর বাড়ানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছেন।” তৃণমূল এবং বিজেপি একসঙ্গে বনধ সফল করতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ বাম কর্মী ও সমর্থকদের। 

এ নিয়ে সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল বেশি দাপট দেখাতে চাইছে। মারধর, গ্রেফতার, আক্রমণ। যাদবপুরে সৃজন-সহ অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। আসানসোলে তৃণমূলের বাহিনী আক্রমণ করেছে। ডোমজুড়েও তাই। ফাজলামো হচ্ছে এগুলো! আসলে দিল্লির কাছে প্রমাম করার চেষ্টা যে, বিজেপি-র চেয়ে আমি অনেক বেশি বিজেপি পন্থী। পশ্চিমবঙ্গের সরকার এটা প্রমাণ করতে চাইছে। আর সরকারের হয়ে খিদমত করতে নেমে পড়েছে পুলিশ। এতে মানুষের বিক্ষোভ বাড়ছে, বাড়বে। এর ফল ভুগতে হবে।”

যদিও তৃণমূলের আইটি সেলের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর নয়, ক্ষমতায় আসার আগে থেকে তৃণমূল ধর্মঘটের বিরুদ্ধে। ধর্মঘট কার বিরুদ্ধে, সেটা ব্যাপার নয়, কার বিরুদ্ধে আগুন ধরানো হচ্ছে, তা ব্যাপার নয়, এতে সাধারণ মানুষ হেনস্থা হচ্ছেন। ধর্মঘট হলে সাধারণ মানুষের পেটে লাথি পড়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও যদি ধর্মঘট হয়, তাতে বাংলার মানুষের পেটে লাথি পড়লে, রাজ্যের সরকার বিরোধিতা করবে। এই একই অবস্থা কেরলের বামফ্রন্ট সরকারও। কেরলেই তো বামফ্রন্ট সরকার এই বনধ মানছে না!”

Post Comment

You May Have Missed