গণহারে ছাঁটাই, GDP-তে ধস, ঘোর অর্থনৈতিক সঙ্কট, আর দু’বছরের মধ্যেই? ভারতের তিনটি সংস্থা নজরে

গণহারে ছাঁটাই, GDP-তে ধস, ঘোর অর্থনৈতিক সঙ্কট, আর দু’বছরের মধ্যেই? ভারতের তিনটি সংস্থা নজরে

নয়াদিল্লি: যন্ত্রমেধার বাড়বাড়ন্ত ঘোর সঙ্কট নেমে আসতে চলেছে বলে এবার সতর্কবার্তা এল। গবেষণা সংস্থা Citrini Research যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, AI-এর দরুণ ঘোর সঙ্কট নেমে আসছে। তাতে টালমাটাল হয়ে উঠবে বৈশ্বিক বাজার। (Indian IT Sector)

The 2028 Global Intelligence Crisis বা ২০২৮ বৈশ্বিক বুদ্ধিমত্তা সঙ্কট শীর্ষক গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বৈশ্বিত অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। কারণ ওই রিপোর্টে ‘Doomsday’, অর্থাৎ শেষের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২৮ আসতে আসতে গণহারে কর্মহারা হবেন সাধারণ মানুষ। অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখে দেবে। রফতানি কমে যাবে, ডলারের সাপেক্ষে ভারতের টাকা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও দাবি করা হয়েছে। (Artificial Intelligence)

ভারতের একাধিক তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার কথা বিশেষ ভাবে জায়গা পেয়েছে ওই গবেষণাপত্রে। নাম রয়েছে Infosys, TCS, Wipro-র। AI নির্ভর স্বয়ংক্রিয়তার জেরে তাদের ব্যবসার কাঠামোই ধাক্কা খাবে বলে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র থেকে বার্ষিক রফতানি এই মুহূর্তে ২০০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০২৮ আসতে আসতে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র থমকে যাবে। কারণ ন্যূনতম খরচে AI কোডিং এজেন্ট ব্যবহার করেই চাহিদা মিটে যাবে গ্রাহকদের। 

২০২৮ সালের জুন মাস নাগাদই অর্থনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করবে বলে দাবি করা হয়েছে গবেষণাপত্রে। বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেমন—

ভারতের পরিস্থিতি কী হবে: ভারতকে নিয়ে উদ্বেগ ধরা পড়েছে গবেষণাপত্রে। বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকেই আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে ভারতকে। AI-এর বাড়বাড়ন্তে ভারতের কোডিং ব্যবসা জোর ধাক্কা খাবে। ভারতের প্রযুক্তিক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীলতা কমবে বিশ্বে। ২০২৭ সালেই TCS, Infosys, Wipro-র মতো সংস্থার প্রাপ্ত বরাত বাতিল হবে এক এক করে। আগামী দু’বছরে আরও পতন ঘটবে ভারতের টাকার। 

Ghosh GDP: AI উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, কর্পোরেট মুনাফা বৃদ্ধি পাবে (GDP বৃদ্ধিতে যার যোগদান নামমাত্র)। White Collar Jobs, অর্থাৎ বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত পেশাদার কর্মী, ম্যানেজার পদে অধিষ্ঠিত কর্মী, অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে কর্মরত লোকজন যাঁরা দৈহিক পরিশ্রমের পরিবর্তে বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগান, মূলত অফিসে বা দূরে বসে যাঁরা অফিসের কাজ করেন, তাঁদের চাকরি নিয়ে ঝুঁকি দেখা দেবে। তাঁদের চারকি চলে যাওয়ার অর্থ পরিবারের আয় কমে যাবে, মজুরিবৃদ্ধির যাবতীয় সম্ভাবনাও ধসে যাবে। 

Intelligence Displacement Spiral: স্বয়ংক্রিয়তার স্রোতে গা ভাসিয়ে পে-রোলে অর্থাৎ বেতন এবং ভাতাবাবদ খরচ-খরচায় কাটছাঁট করবে সংস্থাগুলি। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে। এটি একটি নেতিবাচক চক্র, যার আওতায় আরও খরচ কমাবে সংস্থাগুলি, AI-এ বিনিয়োগ আরও বাড়াবে তারা। 

Death of SaaS: AI এজেন্টের সাহায্যে সংস্থার অন্দরের বিভিন্ন কাজকর্মে ব্যবহৃত সফ্টওয়্য়ারের কার্যকারিতায় রদবদল ঘটবে। ফলে সফ্টওয়্যার পরিষেবা প্রদানকারী (Software-as-a-Service Firms) সংস্থাগুলির বাজারমূল্য এবং তাদের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শেয়ারবাজারের উপর কী প্রভাব: ২০২৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে আমেরিকার স্টক এক্সচেঞ্জে ৩৮ শতাংশ পতন দেখা যেতে পারে। ২০২৮ আসতে আসতে বেকারত্বের হার বেড়ে ১০.২ শতাংশ হবে। 

বেশি ঝুঁকি কোন ক্ষেত্রে: ভারতের তথ্য়প্রযুক্তিক্ষেত্রগুলির উপর বিরাট প্রভাব পড়বে। সঙ্কটজনক অবস্থা হবে Infosys, TCS, Wipro-র মতো সংস্থাগুলির। কারণ AI কোডিং এজেন্ট রাখার খরচ বিদ্যুৎ বাবদ খরচের সমানে এসে ঠেকবে। 

লেনদেনে প্রভাব: Visa, Mastercard মারফত লেনদেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চিরাচরিত লেনদেন বন্ধ হয়ে Stablecoins-এর মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির জনপ্রিয়তা বাড়বে। 

কাদের চিন্তার কারণ নেই: আমেরিকা-সহ অন্য দেশগুলি সঙ্কটে পড়লেও, এশিয়ার দুই দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের কোনও বিপদ নেই। Samsung, SK Hynix, TSMC-এর মতো হার্ডওয়্যার সংস্থাকে এর কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। 

২০২৩ সালে Citrini Research সংস্থাটির প্রতিষ্ঠা হয়। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জেমস ভ্যান গিলেন নিদের স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থা বিক্রি করে শেয়ার বাজার নিয়ে গবেষণাপত্র লিখতে শুরু করেন। ওষুধপত্র এবং AI নিয়েও গবেষণা করেছেন তিনি। নিউ ইয়র্কের Lotus Technology Management-এর আলাপ শাহও এই গবেষণাপত্রটির সঙ্গে যুক্ত। তবে Citrini Research-এর দাবি, তারা কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করছে না, বরং যন্ত্রমেধার বাড়বাড়ন্তে ভবিষ্যতে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার ছবি তুলে ধরছে। তবে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হতেই IBM-এর শেয়ার ধসে গিয়েছে। ভারতের বাজারেও ধস নেমেছে।

Post Comment

You May Have Missed