‘এতদিন যারা লুঠতরাজ চালিয়েছে…’, একধাক্কায় শুল্ক আরও বৃদ্ধি করলেন ট্রাম্প

‘এতদিন যারা লুঠতরাজ চালিয়েছে…’, একধাক্কায় শুল্ক আরও বৃদ্ধি করলেন ট্রাম্প

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশই সার। বৈশ্বিক শুল্ক আরও বৃদ্ধি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পরই ১০ শতাংশ হারে নতুন করে বৈশ্বিক শুল্করে ঘোষণা করেন তিনি। এবার আরও বাড়িয়ে বৈশ্বিক শুল্ককে ১৫ শতাংশে নিয়ে গেলেন। (Donald Trump Tariffs)

সোশ্যাল মিডিয়ায় বৈশ্বিক শুল্ক বৃদ্ধির কথা জানান ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্য়ালে লেখেন, ‘শুল্ক নিয়ে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট যে হাস্যকর, দুর্বল আকারে লিপিবদ্ধ, আমেরিকা বিরোধী সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খুঁটিয়ে দেখে, সব দিক বিবেচনা করে এই বিবৃতি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি এই মুহূর্ত থেকে বৈশ্বিক শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করলাম। সেই সমস্ত দেশের উপর শুল্ক বাড়ানো হল, যারা দশকের পর দশক আমেরিকাকে লুঠ করেছে, পাল্টা আঘাত সহ্য করতে হয়নি (আমি আসার আগে পর্যন্ত)’। (US Tariffs)

ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ট্রাম্প সরকার নতুন হারে, আইন দ্বারা অনুমোদিত শুল্ক নির্ধারণ করে, সেই মর্মে কার্যকর করবে, যা আমেরিকাকে শ্রেষ্ঠত্বের দিকে নিয়ে যেতে, শ্রেষ্ঠতর করে তোলার সফল প্রক্রিয়াক অব্যাহত রাখবে’। আমেরিকার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নং অনুচ্ছেদ প্রেসিডেন্টকে ১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর অধিকার প্রদান করে। তবে সেই নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।  ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্কই চাপাতে পারেন ট্রাম্প। ওই হারে শুল্ক কার্যকর রাখতে পারেন সর্বাধিক ১৫০ দিন। এর পর কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

গত শুক্রবার ট্রাম্পের আগের সব শুল্ক বাতিল করে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্টকে তাঁর এক্তিয়ার স্মরণ করিয়ে দিয়ে, তাঁর চাপানো সব শুল্ককে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৭৭ সালেক আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (IEEPA) অপব্যবহার হয়েছে বলে জানায় আদালত। জানানো হয়, ওই আইনের বলে ট্রাম্প চাইলেই ইচ্ছে মতো শুল্ক চাপাতে পারেন না। 

আদালতের ওই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, IEEPA-র আওতায় শুল্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট হাত বেঁধে দিলেও, তাঁর হাতে অন্য অস্ত্র রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বাণিজ্য ধ্বংস করে দিতে পারি, দেশ ধ্বংস করে দিতে পারি। কোনও দেশকে গুঁড়িয়ে দিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারি আমি। চাইলেই পারি। যা ইচ্ছে করতে পারি আমি। অথচ ১ ডলারও নিতে পারি না, কারণ তেমন কিছু বলা নেই! এ কেমন হাস্যকর যুক্তি?” আর তার পরই বৈশ্বিক শুল্ক ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নিয়ে গেলেন তিনি।



Post Comment

You May Have Missed