ইরানে উড়িয়ে দেওয়া হল খামেনেইয়ের বাড়ি? একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজ়রায়েলের, আয়াতোল্লা এখন কোথায়?

ইরানে উড়িয়ে দেওয়া হল খামেনেইয়ের বাড়ি? একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজ়রায়েলের, আয়াতোল্লা এখন কোথায়?

নয়াদিল্লি: একসঙ্গে ইরানে হামলা ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার। দেশের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দফতরেও হামলা চালানো হল। ইরানের ৩০টিরও বেশি জায়গায় একসঙ্গে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। দেশের রাজধানী তেহরানের উত্তর এবং পূর্বেও মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করা হয়েছে, যেখানে বসবাস খামেনেইয়ের। যদিও সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, খামেনেইকে আগেই সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। (Attacks on Iran)

শনিবার সকাল থেকে পর পর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে ইরান। ইজ়রায়েল জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করেছে তারা। সংবাদ সংস্থা AP-ও জানিয়েছে, যেখানে আয়াতোল্লা থাকেন এবং তাঁর বিভিন্ন দফতর রয়েছে, সেখানেও হামলা চালানো হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ৮৬ বছর বয়সি খামেনেই হামলার সময় সেখানে ছিলেন না। বিপদ আঁচ করে আগেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। (Ayatollah Ali Khamenei)

এই মুহূর্তে কোথায় আছেন খামেনেই, তা নিয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন করছে তেহরান। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যাতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী চোখে পড়েছে। খামেনেইয়ের বাসভবন থেকেই ওই ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি। তবে এবিপি আনন্দ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি।

ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন জায়গায় রকেট বর্ষণ করা হয়েছে বলে খবর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যে ছবি এবং ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, আগুন জ্বলছে একাধিক জায়গায়। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারিদিক। তেহরানে পর পর তিনটি তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।

ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজ়রায়েল কাৎজ়ের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “বিপদ আঁচ করে, আত্মরক্ষার্থে ইরানে আগাম হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল।” তবে আচমকা ইরানের উপর ফের এই হামলা কেন, উঠছে প্রশ্ন। যদিও এমনটা সময়ের অপেক্ষা ছিল বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে অস্বস্তিতে আমেরিকা। একদিন আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানকে নিয়ে মোটেও খুশি নন তিনি। সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন ট্রাম্প, এমনকি ইরানে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিতও দেন। এর আগে, পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানকে ১৫ দিন সময় দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অন্যথায় ‘পরিস্থিতি খারাপ হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন। গত বছরও একযোগে ইরানে হামলা চালায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা।

ইজ়রায়েলি সেনার এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকার সহযোগিতায় বেশ কয়েক মাস ধরেই এই হামলার পরিকল্পনা চলছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই দিন ক্ষণ ঠিক হয়ে গিয়েছিল। এই হামলার দরুণ নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে ইরান। পূর্ব এবং পশ্চিমে বন্ধ মোবাইল ফোনের পরিষেবা। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ একাধিক এলাকায়। তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জও বন্ধ রয়েছে।



Post Comment

You May Have Missed