ইডেনে সারাদিনে পড়ল ১১ উইকেট, উত্তরাখণ্ড শেষ ২১৩ রানে, উইকেট নিয়ে রইল অসন্তোষও

ইডেনে সারাদিনে পড়ল ১১ উইকেট, উত্তরাখণ্ড শেষ ২১৩ রানে, উইকেট নিয়ে রইল অসন্তোষও


সন্দীপ সরকার, কলকাতা: চার পেসার খেলানোর ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছিল বাংলা শিবির। রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) অভিযান শুরুর ম্যাচে সেই অঙ্কই আঁকড়ে নামল বাংলা। ইডেনে (Eden Gardens) একসঙ্গে খেলানো হল মহম্মদ শামি (Mohammed Shami), আকাশ দীপ (Akash Deep), সূরয সিন্ধু জয়সওয়াল ও ঈশান পোড়েলকে। বুধবার টসভাগ্যও সঙ্গ দিল বাাংলার। টস জিতে উত্তরাখণ্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠালেন বাংলার অধিনায়ক অভিমন্য়ু ঈশ্বরণ। ২১৩ রানে অল আউট করে দেওয়া গেল প্রতিপক্ষকে।

তবু, ঘরের মাঠের ফায়দা কি পুরোপুরি তুলতে পারল বাংলা? প্রশ্ন থাকছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বাংলা শিবির থেকেও। বলা হচ্ছে, জোরে বোলিংই যখন দলের অস্ত্র, সেখানে উইকেট থেকে আরও বাউন্স ও গতি পেলে বাংলা প্রথম দিনই চালকের আসনে থাকত। বাংলা শিবিরের কারও কারও মতে, উইকেট থেকে পেসাররা খুব বেসি সাহায্য পাচ্ছেন না। এক পেসার তো এ-ও বলে গেলেন যে, একেবারে পাটা উইকেট। খাতায়-কলমে দুর্বল দল উত্তরাখণ্ডকে অল আউট করতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে।

বাংলার চার পেসারের মধ্যে তিনজন উইকেট পেলেন। সূরয গত রঞ্জিতে ৬ ম্যাচে পেয়েছিলেন ২৯ উইকেট। বুধবার প্রথম ম্যাচে পেলেন ৪টি। শামি ও ঈশান ৩টি করে উইকেট পেলেন। উইকেটহীন রইলেন চোট সারিয়ে ফেরা আকাশ দীপ। যিনি ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে নজর কেড়েছিলেন।

সকালের দিকে বেশ নির্বিষ দেখিয়েছে বাংলার বোলিং। শামির সব বলও হাঁটুর ওপরে উঠছিল না। কিছুটা যেন ছন্দহীন দেখাচ্ছিল ডানহাতি জোরে বোলারকে। উইকেট কার্যত ঘাসহীন। বল সেভাবে নড়াচড়াও করেনি। ভূপেন লালওয়ানি ৭১ রান করেন। তিনিই উত্তরাখণ্ডের সর্বোচ্চ স্কোরার। ক্যাচও ফেলেছে বাংলা। বিশাল ভাটির বলে ব্যক্তিগত ১৫ রানে থাকা যুবরাজ চৌধুরীর ক্যাচ ফেলেন ঈশান। যুবরাজ অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৯ করে ফেরেন।

উত্তরাখণ্ডের ২১৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৫ ওভারে ৮/১। ইনিংসের প্রথম বলেই অভিমন্যু ঈশ্বরণ অফস্টাম্পের বাইরে খোঁচা দিয়ে কট বিহাইন্ড হন। যা নিয়ে বাংলার কোচও আক্ষেপ করে গেলেন।

সব মিলিয়ে সারাদিনে ১১ উইকেট পড়ল। তবে উইকেট যেরকম আচরণ করছে, কারও কারও আশঙ্কা, চারদিনে ম্যাচের ফয়সালা হবে তো! কেউ কেউ এমনও বলছেন, বাংলা চালকের আসনে থাকলেও, দুর্বল উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে বোনাস পয়েন্ট না পেলে গ্রুপ পর্বে পরের দিকে না অভিমন্যুদের অঙ্কের জটে পড়তে হয়।

Post Comment

You May Have Missed