আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে? জানালেন পীযূষ গয়াল

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে? জানালেন পীযূষ গয়াল

গয়াল বলেন, “আমাদের কাছে আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বও রয়েছে—কোয়াড থেকে প্যাক্স সিলিকা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি এখন পরিবর্তনশীল। আমরা সেখানে প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপে আছি। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে, যাতে ভারতের স্বার্থ রক্ষা হয়। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, ভারতের জন্য সর্বোত্তম সুযোগ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট Learning Resources, Inc. v. Trump মামলায় ৬-৩ রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুল্কনীতির আইনি ভিত্তি খারিজ করে দেয়। এই রায়ের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

গয়াল বলেন, “পরিস্থিতি বদলালে চুক্তিও পুনর্বিন্যাস করা হবে। একটি বাণিজ্য চুক্তির বহু উপাদান থাকে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তুলনামূলক ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার উপর নির্ভর করে। বিষয়টা শুধু শুল্কের হার নয়—প্রতিযোগীদের তুলনায় আপনি কতটা সুবিধা পাচ্ছেন সেটাই মুখ্য। ৫০ শতাংশ শুল্কে আমরা বড় অসুবিধায় ছিলাম। সেটিকে প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক কমে নামিয়ে আনা ভারতের কৃষি, হস্তশিল্প, হীরা ও ওষুধ শিল্পের জন্য বড় সাফল্য। চলতি বছরে ভারতের রপ্তানি আরও বাড়বে।”

সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “১৪০ কোটির সমর্থন যখন আপনার সঙ্গে, তখন ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে পুরুষ ও নারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব। কোনও দেশ বাণিজ্য, অংশীদারিত্ব ও জোট ছাড়া উন্নত দেশে পরিণত হয়নি। ২০১৪ সাল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়েছেন। ইউপিএ আমলের দুর্নীতির অধ্যায় বন্ধ করে অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ভারত যখন গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠল, তখন উন্নত দেশগুলির সঙ্গে সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছি। শক্ত অবস্থান থেকে, কৌশলগত স্বার্থ ও সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে বিশ্বে দরজা খুলে দেওয়াই ছিল প্রধানমন্ত্রীর কৌশল। এতে আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে দ্রুতই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লক্ষ-কোটি নাগরিক, কৃষক, এমএসএমই ও যুবসমাজের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

ভারতের উন্নয়নযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে News18 Rising Bharat Summit 2026। ২৭–২৮ ফেব্রুয়ারি ভারত মণ্ডপমে এই শীর্ষ সম্মেলনে জাতীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

‘Strength Within’ থিমকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সম্মেলন শাসন, অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কৌশলগত চিন্তাভাবনার মিলনমঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই মঞ্চে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মূল ভাষণ দেবেন। তাঁর বক্তব্যে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা, অর্থনৈতিক গতি এবং কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে, যা দুই দিনের আলোচনার দিকনির্দেশ স্থির করবে।

বছরের পর বছর ধরে Rising Bharat নীতিগত সংলাপের একটি বিশ্বাসযোগ্য মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সংস্করণে ভারতের আগামী পর্যায়ের অগ্রগতির ধারণাগুলিকে আরও তীক্ষ্ণভাবে সামনে আনার লক্ষ্যে আলোচনা হচ্ছে। ‘Strength Within’ থিম প্রতিটি নাগরিকের অন্তর্নিহিত শক্তিকে সম্মান জানায়—যে শক্তি উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতকে অগ্রণী অবস্থানে প্রতিষ্ঠা করে।

Previous post

‘নির্বাচন আসছে তাই কাঁপছে বাংলা…’, আচমকা কেঁপে উঠল ক্যামেরা, মাঝপথেই ভাষণ থামালেন সুকান্ত, মুহূর্তে ভাইরাল ভূমিকম্পের ভিডিও

Next post

Holi 2026 Trip: খুব কম বাজেটে দোলে প্রচুর ‘মস্তি’, বীরভূমের ‘এই’ কয়েকটি জায়গা সেরা ঠিকানা, ঘুরে আসুন

Post Comment

You May Have Missed