আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা তৃণমূলের, ED-র বিরুদ্ধে তদন্ত নয় আপাতত

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা তৃণমূলের, ED-র বিরুদ্ধে তদন্ত নয় আপাতত

কলকাতা: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর-এ স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ED-র দাবিই বৈধতা পেল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। শেক্সপিয়র সরণী এবং সল্টলেকের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় ED-র বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি এফআইআর-এই স্থগিতাদেশ দিল আদালত। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। অর্থাৎ ওই সময়কাল পর্যন্ত পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে কোনও তদন্ত হবে না। আদালত জানিয়েছে, উপযুক্ত অনুমতি এবং নথি নিয়ে কেউ তদন্ত করতে চায়, তাহলে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নের জায়গা থাকে না। (ED Raids at IPAC)

গোড়া থেকেই ED দাবি করছিল, যেভাবে তদন্তকারী অফিসারদের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশ এবং বিধাননগর পুলিশের FIR দায়ের করেছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিয়ম মেনেই তদন্ত করতে গিয়েছিলেন ED-র অফিসাররা। তথ্য নষ্ট করতে, ED-র অফিসারদের হেনস্থা করতেই পুলিশ FIR দায়ের করেছে। তাই পুলিশের দায়ের করা FIR গুলি স্থগিতাদেশ নিতে এদিন আদালতে আর্জি জানায় ED. সেই মতোই চারটি FIR-এ স্থগিতাদেশ জারি করল আদালত। ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশের দায়ের করা FIR নিয়ে কোনও তদন্ত হবে না আর। (IPAC Raid Case)

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই কেন্দ্রীর বিজেপি সরকার ED-কে ব্যবহার করছে, তাদের নির্বাচনী তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে গোড়া থেকে দাবি করে আসছিল তৃণমূল। যদিও ED-র দাবি ছিল, রাজনীতির সঙ্গে তাদের তদন্তের কোনও সংযোগ নেই। কয়লাপাচার নিয়ে তদন্ত চলছে। সেই নিয়ে এদিন আদালত জানাল, উপযুক্ত অনুমতি এবং নথি নিয়ে তদন্ত করতে গেলে, সেই সংস্থার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকে না। অর্থাৎ ED যদি উপযুক্ত তথ্য়ের ভিত্তিতে, আইন মেনে যদি তদন্ত চালায়, তাহলে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। আদালত জানিয়েছে, ED বা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির কাজে রাজ্যের সংস্থার হস্তক্ষেপ গুরুতর বিষয়। প্রত্যেক সংস্থা যাতে স্বতন্ত্রভাবে তদন্ত করতে পারে, তা দেখতে হবে।

বিচারপতিরা এদিন আরও জানান, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা যেমন কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তেমনই কেন্দ্রীয় সংস্থা সঠিক ভাবে কাজ করলে, রাজনৈতিক দল যুক্ত আছে বলে তদন্ত করা যাবে না, এমনও বলা ঠিক নয়। এই মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের DGP রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা, দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি কমিশনার প্রিয়ব্রত রায়ের আইনজীবীকে এদিন নোটিসও ধরিয়েছে আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে সকলকে। ৩ ফেব্রুয়ারি সেই নিয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

পাশাপাশি, প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতর এবং তার আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সমস্ত নথিপত্রও সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত রায়দান করবে আদালত। পাশাপাশি, হাইকোর্টে কেন শুনানি শুনানি হবে না, সেই প্রশ্ন তোলা হয় রাজ্যের তরফে। তবে আদালত জানিয়েছে, বৃহত্তর প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টেই শুনানি হবে। যদিও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য়, “হাইকোর্টে তো ওরাই গিয়েছিল। আমরা তো যাইনি!”  তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে, আজ পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে CBI তদন্তের দাবিও জানায় ED. রাজ্যের DG এবং আইপিএস অফিসারদের সাসপেন্ড করার যে আর্জি জানিয়েছিল ED, এদিন তা গৃহীত হয়নি আদালতে।

Input By : https://bengali.abplive.com/news/ed-vs-jharkhand-ranchi-police-face-off-police-reaches-agency-office-over-assault-complaint-1164803

Post Comment

You May Have Missed